উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং বুদ্ধিমানদের জন্য দিকনির্দেশনা

যদি আপনি উচ্চাকাঙ্ক্ষী(জান্নাতুল ফিরদাউস) এবং বুদ্ধিমান হন,তবে আপনিও মুজাহিদ হতে চাইবেন।
জেনে নিন আল-কোরআন এবং সহিহ হাদিসের আলোকে মুজাহিদের মর্যাদাঃ

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন: “আর যারা আল্লাহর রাহে নিহত হয়, তাদেরকে তুমি কখনো মৃত মনে করো না। বরং তারা নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিত ও জীবিকাপ্রাপ্ত।” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৬৯)

সাহাবী হযরত মাসরূক (রা.) বর্ণনা করেছেন, আমরা হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-কে উল্লেখিত আয়াতটির অর্থ জিজ্ঞাসা করলাম। জবাবে তিনি বললেন যে, এ আয়াতের অর্থ আমরা নবী করীম (স.)-কে জিজ্ঞাসা করলে জবাবে তিনি বলেছিলেন : শহীদগণের আত্মাসমূহ সবুজ পাখির শরীরে অবস্থান করে। তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর আরশ থেকে ঝুলন্ত দীপাধার। তারা বেহেশতের যেখানে ইচ্ছা সেখানে পরিভ্রমণ করতে থাকে এবং ঐসব দীপাধারে প্রত্যাবর্তন করে বিশ্রাম গ্রহণ করে। তাদের প্রতি লক্ষ্য করে তাদের সর্বশক্তিমান বলেন : তোমাদের কি জিনিসের জন্য আগ্রহ হয়? তারা আরজ করে আমরা কিসের আগ্রহ করব, অথচ আমরা যেখানে ইচ্ছা বেহেশতের সেখানেই বেড়াতে পারি। আল্লাহ তাদের তিনবার এ ধরনের প্রশ্ন করতে থাকেন এবং তাদের জিজ্ঞাসা করেন যে, তারা কি চায়, তারা আগ্রহ ব্যক্ত করতে থাকে যে, তাদের আত্মা পুনরায় তাদের দেহে প্রত্যাবর্তিত করে দেয়া হোক যাতে তারা আবার শহীদ হতে পারেন। আল্লাহতালা যখন তাদের এ মনোভাবে বুঝতে পারেন, তখন পূর্বাবস্থায় তাদেরকে ছেড়ে দেন ।
সাহীহ মুসলিমঃ ৪৬৫১ http://sunnah.com/muslim/33/181
Sahih Muslim 1887 http://sunnah.com/muslim/33/181
তিরমিজিঃ ৩২৮২ http://sunnah.com/urn/640080

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) কর্তৃক বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (স.) তাঁর সাহাবাগণকে বলেন : তোমাদের যেসব ভাই ওহোদ যুদ্ধে শহীদ হয়েছে, তাদের আত্মা আল্লাহতাআলা সবুজ পাখিদের পেটে রেখেছেন। এসব আত্মা বেহেশতের নহরগুলোতে (নদ-নদী) গমন করে এবং বেহেশতের ফল খায়। তারা বিশ্রাম গ্রহণ করে আর্শের ঝুলন্ত প্রদীপসমূহে, যখন এসব আত্মা পানাহার ও থাকার এসব গুণাগুণ অবগত হয়, তখন তারা বলে, দুনিয়ায় আমাদের যেসব ভ্রাতা রয়েছেন, তাদের নিকট এই সুসংবাদ কে পৌঁছাবে যে, বেহেশতে আমরা জীবিত আছি, যেন তারাও দুনিয়ার প্রতি অধিক উৎসাহিত না হয় এবং জিহাদের প্রতি অবহেলা না করেন। তখন আল্লাহতাআলা তাদেরকে বলেন, আমি তোমাদের পক্ষ হতে দুনিয়াবাসীদের এ সংবাদ জানিয়ে দিচ্ছি। এ ঘটনা উপলক্ষে উপরোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়। অর্থাৎ যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের মৃত বলো না, বরং তারা জীবিত তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে জীবিকাপ্রাপ্ত হয়ে থাকে।
Sunan Abi Dawud 2520 http://sunnah.com/abudawud/15/44
http://www.alim.org/library/quran/AlQuran-tafsir/TIK/3/169

সূরা নিসা -৪:৯৫-৯৬
সমতুল্য নয় , মুমিনদের মধ্যেকার যারা বসে থাকে , কোন চোটজখম না থাকতেও, আর যারা আল্লাহর পথে তাদের ধনসম্পত্তি ও তাদের জান প্রান দিয়ে জিহাদ করে ।
আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় তারা যারা ধনসম্পত্তি ও জান প্রান দিয়ে জিহাদ করে ,
তাদের থেকে যারা বসে থাকে, পদমর্যাদার দিক থেকে।
এগুলো তাঁর পক্ষ থেকে পদমর্যাদা, ক্ষমা ও করুণা; আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়।

সূরা তাওবাহ ১৬
তোমরা কি মনে কর যে, তোমাদের ছেড়ে দেয়া হবে এমনি, যতক্ষণ না আল্লাহ জেনে নেবেন তোমাদের কে যুদ্ধ করেছে এবং কে আল্লাহ, তাঁর রসূল ও মুসলমানদের ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করা থেকে বিরত রয়েছে। আর তোমরা যা কর সে বিষয়ে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত।

সূরা আছ-ছফ 61:10-14
মুমিনগণ, আমি কি তোমাদেরকে এমন এক বানিজ্যের সন্ধান দিব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি দেবে?
তা এই যে, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ও জীবনপণ করে জেহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম; যদি তোমরা বোঝ।
তিনি তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করবেন এবং এমন জান্নাতে দাখিল করবেন, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত এবং বসবাসের জান্নাতে উত্তম বাসগৃহে। এটা মহাসাফল্য।
এবং আরও একটি অনুগ্রহ দিবেন, যা তোমরা পছন্দ কর। আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য এবং আসন্ন বিজয়। মুমিনদেরকে এর সুসংবাদ দান করুন।
মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হয়ে যাও, যেমন ঈসা ইবনে-মরিয়ম তার শিষ্যবর্গকে বলেছিল, আল্লাহর পথে কে আমার সাহায্যকারী হবে? শিষ্যবর্গ বলেছিলঃ আমরা আল্লাহর পথে সাহায্যকারী। অতঃপর বনী-ইসরাঈলের একদল বিশ্বাস স্থাপন করল এবং একদল কাফের হয়ে গেল। যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, আমি তাদেরকে তাদের শত্রুদের মোকাবেলায় শক্তি যোগালাম, ফলে তারা বিজয়ী হল।

সূরা আল ইমরান 145
আর আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মরতে পারে না-সেজন্য একটা সময় নির্ধারিত রয়েছে। বস্তুতঃ যে লোক দুনিয়ায় বিনিময় কামনা করবে, আমি তাকে তা দুনিয়াতেই দান করব। পক্ষান্তরে-যে লোক আখেরাতে বিনিময় কামনা করবে, তা থেকে আমি তাকে তাই দেবো। আর যারা কৃতজ্ঞ তাদেরকে আমি প্রতিদান দেবো।

তোমরা প্রতিযোগিতা কর তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে ক্ষমা এবং জান্নাতের জন্য, যার প্রস্থ আকাশ ও পৃথিবীর সমান, যা ধর্মভিরুদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সূরা আল ইমরান 120

সলায়মান(রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আমি রাসুল(সাঃ)কে বলতে শুনেছিঃ “যে আল্লাহর জন্য দেশের সীমান্ত একদিন এবং একরাত পাহাড়া দেয়, সে যেন একমাস সালাত এবং সাওমের সমান পুরষ্কার পেল। যদি সে মারা যায় তবে সে তার এক পুরষ্কার পেতেই থাকবে, সে আল-ফিতান থেকে নিরাপদ থাকবে এবং তার জন্য বিশেষ বন্দোবস্ত করা হবে।
Sunan an-Nasa’i 3168 http://sunnah.com/nasai/25/84

রাসুল(সাঃ) বলেছেন, জান্নাতে প্রবেশের পর একমাত্র শহীদ ছাড়া আর কেউ দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাঙ্খা পোষণ করবে না, কেননা সে জান্নাতে শাহাদাতের মর্যাদা দেখেছে।এজন্যই শহীদ দুনিয়াতে ফিরে এসে দশবার শহীদ হতে চাইবে।
Sahih al-Bukhari 2817 http://sunnah.com/bukhari/56/33
Sahih Muslim 1877 a http://sunnah.com/muslim/33/163
Sahih Muslim 1877 b http://sunnah.com/muslim/33/164
Jami` at-Tirmidhi 1643 http://sunnah.com/tirmidhi/22/26
Jami` at-Tirmidhi 1661 http://sunnah.com/tirmidhi/22/44
Jami` at-Tirmidhi 1640 http://sunnah.com/tirmidhi/22/23

আবু দাররা(রাঃ) বর্ণিত রাসুল(সাঃ) বলেছেন, একজন শহীদ তার পরিবারের ৭০জনের জন্য সুপারিস করে তাদের জান্নাতে নিতে পারবে।
সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং ২৫২২ http://sunnah.com/abudawud/15/46
সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২৭৯৯ http://sunnah.com/urn/1276480
জামি আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৬৬৩ http://sunnah.com/tirmidhi/22/46

আল-মিকদাম বিন মাদিকারিব(রাঃ) বর্ণিত রাসুল(সাঃ) বলেছেন, শহীদের জন্য আল্লাহ ৬টি বিষয় রেখেছেন।
তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয় তার প্রথম রক্ত ফোটা পড়ার সময়,
তাকে জান্নাতে তার অবস্থান দেখানো হয় ,
তাকে কবরের আজাব থেকে মুক্তি দেয়া হয়,
হাশরের দিনের ভয়াবহ পরিস্হিতি থেকে মুক্ত ও নিরাপদ থাকবে,
তাকে সম্মানের মুকুট পড়ানো হয়,
তাকে ৭২জন হুরদের সাথে বিয়ে দেয়া হয়
এবং তার পরিবারের ৭০ জনের জন্য তাকে সুপারিশের অনুমতি দেয়া হয়।
সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২৭৯৯ http://sunnah.com/urn/1276480
জামি আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৬৬৩ http://sunnah.com/tirmidhi/22/46

এছাড়াও অনান্য হাদিসের আলোকে শহীদদের কিছু বিশেষ মর্যাদা হচ্ছেঃ
১ কেউই জান্নাত হতে বের হতে চাইবে না শুধু মাত্র শহীদগন ছাড়া কেননা সে জান্নাতে শাহাদাতের মর্যাদা দেখেছে।এজন্যই শহীদ দুনিয়াতে ফিরে এসে দশবার শহীদ হতে চাইবে।
২ মৃত্যুর পর শুধু শহীদেরকে গোসল করানো হয় না।
৩ শহীদদের জন্য কাফনের দরকার পড়ে না।
৪ শহীদের লাশ কখনও পচে না
৫ জিহাদ সবচেয়ে বড় আমল

আবু হুরাইরা(রাঃ) বর্ণিত রাসুল(সাঃ) বলেছেন, যে জিহাদ না করে বা জিহাদ করার ইচ্ছা না করে মারা গেছে, সে যেন মুনাফিকের মৃত্যু বরন করেছে।
সহিহ মুসলিম ১৯১০ http://sunnah.com/muslim/33/226
Sunan Abi Dawud 2502 http://sunnah.com/abudawud/15/26

আমর ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন,আমি রাসুলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছি,যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একটি তীর নিক্ষেপ করে,তা একটি গোলাম আজাদ করার সমান।
ইবনে মাজাহ ২৯১৯ http://sunnah.com/urn/1276610
Jami` at-Tirmidhi 1638 http://sunnah.com/tirmidhi/22/21
Sunan an-Nasa’i 3142 http://sunnah.com/nasai/25/58
Sunan an-Nasa’i 3143 http://sunnah.com/nasai/25/59
Sunan an-Nasa’i 3145 http://sunnah.com/nasai/25/61
রিয়াদুস সালেহিন ১২: ১৩৩৭ http://sunnah.com/riyadussaliheen/12/53

আবু হোরায়রা(রাঃ) বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
“যে আল্লাহ এবং তার রাসুলে বিশ্বাস করে, সঠিকভাবে সালাত আদায় করে এবং রমজান মাসে সাওম পালন করে সে আল্লাহর কাছে জান্নাতের হকদার, যদিও সে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ না করে এবং নিজ জন্মভুমিতেই অবস্থান করে।”” তখন লোকজন বলল, হে রাসুল(সাঃ) আমারা কি সবাইকে এই সুসংবাদ দিব না? রাসুল(সাঃ) বল্লেন, “জান্নাতের একশটি স্তর রয়েছে। আল্লাহ তালা তা মুজাহিদদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। প্রত্যেক দু’ স্তরের মধ্যকার ব্যবধান হচ্ছে আসমান ও যমিনের ব্যবধানের সমান। সুতরাং যখন তোমরা আল্লাহর কাছে জান্নাত চাইবে তখন তোমরা জান্নাতুল ফিরদাউস চাও। কেননা এটি হচ্ছে জান্নাতের সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম জান্নাত।”
Sahih al-Bukhari 2790 http://sunnah.com/bukhari/56/8
Sahih al-Bukhari 7423 http://sunnah.com/bukhari/97/51
Sahih Muslim 1884 http://sunnah.com/muslim/33/175
Sunan an-Nasa’i 3132 http://sunnah.com/nasai/25/48

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: “হে আবূ সাঈদ! যে আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মাদ (সাঃ) কে নবী হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছে, নিশ্চয়ই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করতে দেয়া হবে। কথাটি শুনে আবূ সাঈদ আনন্দিত হলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কথাটি আমাকে আবার বলুন। মোহাম্মদ (সাঃ) তা পুনরায় বললেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: এছাড়াও আরেকটি কাজ রয়েছে যা জান্নাতে বান্দার মর্যাদাকে একশো গুণ বৃদ্ধি করে দেয়। যার প্রত্যেক দুই স্তরের মাঝের ব্যবধান হলো আকাশ ও যমীনের দূরত্বের সমান। আবূ সাঈদ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেই কাজটি কি? তিনি বললেন: আল্লাহর পথে জিহাদ করা, আল্লাহর পথে জিহাদ করা।”
Sahih Muslim 1884 http://sunnah.com/muslim/33/175

অনেক সাহাবীদের থেকে বর্ণিত ,
এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল(সাঃ)কে জিজ্ঞাস করলেন, “কেন বাক্তি সবচেয়ে ভাল?” রাসুল(সাঃ) বললেন, “এলজন বিশ্বাসী যে নিজের জীবন এবং ধনসম্পদ দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে” সেই বাক্তি জিজ্ঞাস করল, “তারপর কেন বাক্তি সবচেয়ে ভাল?” রাসুল(সাঃ) বললেন, “তারপর হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর উপাসনার জন্য এবং নিজের খারাপ প্রভাব থেকে মানুষকে মুক্ত রাখতে পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নেয়”।
Sahih Muslim 1888a
Sahih al-Bukhari 2786 http://sunnah.com/bukhari/56/5
Sahih Muslim 1888a http://sunnah.com/muslim/33/182
Sahih Muslim 1888b http://sunnah.com/muslim/33/183
Sahih Muslim 1888c http://sunnah.com/muslim/33/184
Sahih Muslim 84a http://sunnah.com/muslim/1/156
Sahih Muslim 84b http://sunnah.com/muslim/1/157
Jami` at-Tirmidhi 1660 http://sunnah.com/tirmidhi/22/43
Sunan Ibn Majah 3978 http://sunnah.com/ibnmajah/36/53
Sunan an-Nasa’i 2526 http://sunnah.com/urn/1077040

রাসুল(সাঃ) বলেছেন, “জান্নাতে প্রবেশের ১টি দরজা হচ্ছে জিহাদের দরজা।”
Sahih al-Bukhari 3666 http://sunnah.com/bukhari/62/18
Sahih al-Bukhari 1897 http://sunnah.com/bukhari/30/7
Sahih Muslim 1027 a http://sunnah.com/muslim/12/108
Sahih Muslim 1027 b http://sunnah.com/muslim/12/109
Sunan an-Nasa’i 3183 http://sunnah.com/nasai/25/99
Sunan an-Nasa’i 2439 http://sunnah.com/urn/1076190
Sunan an-Nasa’i 3135 http://sunnah.com/nasai/25/51
Sunan an-Nasa’i 2238 http://sunnah.com/nasai/22/149
Jami` at-Tirmidhi Hadith 4037 http://sunnah.com/urn/635500

আব্দুল্লাহ বিন আবি আউফা(রাঃ) বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তরবারীর ছায়ার নীচেই জান্নাত।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৮১৮ http://sunnah.com/bukhari/56/34

আব্দুল্লাহ বিন কাইস বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তরবারীর ছায়ার নীচেই জান্নাত। এক ব্যক্তি বলল, আবু মুসা, তুমি কি আল্লাহর রাসুল(সাঃ)কে এই কথা বলতে শুনেছ? আবু মুসা বলল, হ্যাঁ। তখন সে তার বন্ধুদের কাছে বিদায় নিয়ে তার তলোয়ারের খাপ ভেঙ্গে ফেলল এবং তলোয়ার নিয়ে শত্রুদের উপর জাপিয়ে পড়ল এবং শত্রুরা তাকে হত্যার আগ পর্যন্ত সে যুদ্ধ করতে লাগল।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৯০২ http://sunnah.com/muslim/33/211
Jami` at-Tirmidhi 1659 http://sunnah.com/tirmidhi/22/42
Sahih Muslim 1742 a http://sunnah.com/muslim/32/23
Sahih al-Bukhari 2965, 2966 http://sunnah.com/bukhari/56/175
Sahih al-Bukhari 3024, 3025 http://sunnah.com/bukhari/56/233
Sahih al-Bukhari 4136 http://sunnah.com/bukhari/64/180
Sunan Abi Dawud 2631 http://sunnah.com/abudawud/15/155

জিহাদের জন্য ঘোড়া পালন করাতেও সোয়াব আছে এবং সেই ঘোড়ার মলমুত্র এবং সেই ঘোড়ার খাওয়া ঘাস ও পানি থেকেও তার সোয়াব আছে।
Sahih al-Bukhari 3646 http://sunnah.com/bukhari/61/149

আবু হোরায়রা(রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুল(সাঃ) বলেছেন,“আল্লাহর অতিথি ৩ জনঃ আল্লাহর রাস্তায় যোদ্ধা, হাজী এবং উমরা পালনকারী ”
http://sunnah.com/nasai/25/37
http://sunnah.com/urn/1078020

আয়েশা(রাঃ) বলেন “হে রাসুল(সাঃ), আমরা জিহাদকে সর্বাপেক্ষা ভাল কাজ মনে করি, তাহলে আমরা কি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করব না? রাসুল(সাঃ) বলেন, সর্বাপেক্ষা উত্তম জিহাদ(নারীদের জন্য) হচ্ছে হজ্জ-মাবরুর”
Sahih al-Bukhari 2784 http://sunnah.com/bukhari/56/3

আল-মুগরিব(রাঃ) বর্ণিত, রাসুল(সাঃ) বলেছেন, যে শহীদ সে জান্নাতে যাবে ।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭৫৩০ http://sunnah.com/bukhari/97/155

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) জিজ্ঞাস করা হল, সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের সমান অন্য কাজ কি? রাসুল(সাঃ) বললেন, “তোমার সেই কাজ করার সামর্থ্য নাই”। তারপরও তাকে দ্বিতীয়বার জিজ্ঞাস করা হলে রাসুল(সাঃ) বললেন, “তোমার সেই কাজ করার সামর্থ্য নাই”। তৃতীয়বার তাকে একই প্রশ্ন করা হলে, রাসুল(সাঃ) বলেন, “আল্লাহর পথে জিহাদকারী সেই ব্যক্তির ন্যায় যে সাওম পালন করে, সালাতে দাড়িয়ে থাকে এবং আল-কুরানের আয়াত তিলাওয়াত করতে থাকে এবং অবিরত অক্লান্ত অবস্থায় সাওম ও সালাতে মশ্গুল থাকে যতক্ষণ না মুজাহিদ মহান আল্লাহতালার রাস্তায় জিহাদ থেকে ফিরত আসে।”
Sahih Muslim 1878 a http://sunnah.com/muslim/33/165
Sahih Muslim 1878 b http://sunnah.com/muslim/33/166
Sahih al-Bukhari 2785 http://sunnah.com/bukhari/56/4

রাসুল(সাঃ) বলেছেন, “আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে আল্লাহর রাস্তায় শুধুমাত্র জিহাদের নিয়তে বের হবে এবং আল্লাহতালার বানীকে বিশ্বাস করবে, সে শহীদ হলে আল্লাহতালা তাকে জান্নাতে প্রবেস করতে দিবেন আর শহীদ না হলে তাকে গনিমতের মালসহ বাড়িতে ফেড়াবেন ”
Sahih al-Bukhari 3123 http://sunnah.com/bukhari/57/32
Sahih al-Bukhari 36 http://sunnah.com/bukhari/2/29

আল-বারা থেকে বর্ণিত, একজন ব্যক্তি যার চেহারা লোহার বর্ম দ্বারা আচ্ছাদিত ছিল সে রাসুল(সাঃ) এর কাছে এল এবং জিজ্ঞেস করল “ও আল্লাহ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমি কি আগে যুদ্ধে যাব নাকি আগে ইসলাম গ্রহণ করব”। আল্লাহ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আগে ইসলাম গ্রহণ করো তারপর যুদ্ধে যাও। সে ইসলাম গ্রহণ করল এবং যুদ্ধে গিয়ে শহীদ হলো। আল্লাহর রাসূল বলল, সে অনেক কম করল কিন্তু অনেক বেশি পেল।
Sahih al-Bukhari ২৮০৮ http://sunnah.com/bukhari/56/24

হারিস(রা) বদর যুদ্ধে শাহাদাত(ইনশাআল্লাহ) বরন করলে তার মা তার অবস্থা সম্পরকে জানতে চান। রাসুল(সা) বলেন যে, জান্নাত অনেকগুলি স্তর আছে আর হারিস(রা) জান্নাতের সর্বচ্চস্তর অর্থাৎ জান্নাতুল ফিরদাউসে আছেন।
https://sunnah.com/bukhari/64/33
https://sunnah.com/bukhari/81/139
https://sunnah.com/riyadussaliheen/12/35
https://sunnah.com/bukhari/81/156

ইসলামিক স্টেট কি আমেরিকা বা ইসরাইলের তৈরি ?

ইসলামিক স্টেটের উচ্চ পর্যায়ের নেতা যারা আমেরিকার আক্রমনে শহীদ(ইনশাআল্লাহ) হয়েছেনঃ
Abu Musab al-Zarqawi (founder; killed in 2006)
Abu Ayyub al-Masri (killed in 2010)
Abu Abdullah al-Rashid al-Baghdadi (killed in 2010)
Abu Suleiman al-Naser (head of military shura; killed in February 2011)
Haji Bakr (Strategic head and top deputy in Syria, killed in 2014)
Abu Abdulrahman al-Bilawi (Head of Military Shura, killed in 2014)
Abu Mohannad al-Sweidawi (Member of Military Shura; killed in November 2014)
Abu Sayyaf (senior leader overseeing ISIL’s gas and oil operations, killed in May 2015)
Fadhil Ahmad al-Hayali (Abu Muslim al-Turkmani, deputy leader in charge of Iraq; killed in August 2015)
Abu Nabil al Anbari (Leader of IS in Libya, killed in an air strike in November 2015)
Mullah Abdul Rauf (Deputy Leader of Wilayat Khorasan; killed in 2015)
Hafiz Wahidi (Replacement Deputy Leader of Wilayat Khorasan; killed in 2015)
Abu Omar al-Shishani (field commander in Syria, killed in March 2016)
Abu Ala al-Afri (also known as Abu Ali al-Anbari, Deputy leader of ISIL, killed in March 2016)
Abu Waheeb (commander in Al Anbar, Iraq; killed in May 2016)
Ali Al-Aswad (head of ISIS intelligence, killed in 2016)

ইসলামিক স্টেট অন্যান্য নেতা যারা আমেরিকার আক্রমনে শহীদ(ইনশাআল্লাহ) হয়েছেনঃ
Abu Taisir (Al-Zarqawi’s top Lieutenant, killed in 2003)
Abu Anas al-Shami (Strategist, and Al-Zarqawi’s adviser, killed in 2004)
Abu Azzam (killed in 2005)
Abu Omar al-Kurdi (captured in 2005)
Abdul Hadi al-Iraqi (captured in 2006)
Sheik Abd-Al-Rahman (killed in 2006)
Hamid Juma Faris Jouri al-Saeedi (captured in 2006)
Abu Yaqub al-Masri (killed in 2007)
Haitham al-Badri (killed in 2007)
Khaled al-Mashhadani (captured in 2007)
Mahir al-Zubaydi (killed in 2008)
Mohamed Moumou (killed in 2008)
Huthaifa al-Batawi (killed in 2011)
Omar al-Farouk al-Turki (IS Governor of Al-Hasakah Governorate, killed in 2014)
Douglas McCain (killed in 2014)
Abd al Basit (Military emir in Iraq, killed in 2014)
Radwan Talib (Mosul Governor, killed in 2014)
Hassan Hassan Saeed Al-Jabouri (replacement Mosul Governor, killed in 2014)
Hazem Al-Saeedi – Jarf Al-Sekhar region, Southern Iraq ,killed in 2014)
Abdelmajid Al-Atibi Al-Sabti, (religious emir ,killed in 2014)
Akram Qirbash (top IS judge; killed in 2015)
Abu Maria – (Top IS commander in Tikrit, killed in 2015)
Ali Awni al-Harzi (killed in 2015)
Tariq bin al-Tahar bin al-Falih al-‘Awni al-Harzi (emir, fundraiser, killed in 2015)
Abu Malik (co-Emir of the Kharbadan front, killed in 2015)
Abu Abdul-aziz (co-Emir of the Kharbadan front, killed in 2015)
Ahmed al-Ruwaysi or Abu Zakariya al-Tunisi (killed in 2015)
Abu Abdullah, (media coordinator for Mosul area, killed in August 2015)
Selim Suleiman al-Haram (a leader of Egypt branch, killed in 2015)
Denis Cuspert (also known Abu Talha al-Almani), (German recruiter; killed in October 2015)
Mohammed Emwazi, nicknamed “Jihadi John” (participant in beheading videos; killed in November 2015)
Abu Aiman (governor, killed in 2015)
Abu Hadi (governor, killed in 2015)
Abu Khidir (emir, killed in 2016)
Abul-Athīr al-‘Absī (emir, killed in 2016)
Thaher Mohammed Salman al-Sabawi (commander of IS branch in Nineveh province, killed in 2016)
Abu Ali Sha’i (leader of IS Sharia Court, killed in 2016)
Abu Aisha (leader of IS security affairs, killed in 2016)
Abu Saif (member of IS Council of Military Affairs and “general commander” of IS in Mosul, killed in 2016)
Bazran al-Husam (governor of Al-Hamadaniya district in Nineveh province, killed in 2016)
Abu Fouz (leader of IS Arsal branch, killed in 2016)
Rafiuddin (top financial provider to IS militants in Nangarhar province, killed in 2016)
Abu Ali al-Tunisi (commander of northern Syrian military branch, killed in 2016)
Eidan al-Ezzi (commander of the IS police branch, killed in 2016)
Abu al-Hija (a leader of the Tunisia branch, killed in 2016)
Neil Prakash (Australian IS recruiter, killed in 2016)
Sheikh Ibrahim (IS leader in southern Mosul, killed in 2016)
Maher Al-Bilawi (Fallujah IS commander, killed in 2016)
Mujahid (Afghan local IS leader, killed in 2016)
Mullah Bozorg (Afghan IS local commander, killed in 2016)
Abi Abdulrahman al-Kurdi (local Kurdish IS leader, killed in 2016)
Abu Hamza al-Ansari (local Manbij IS leader, killed in 2016)

ইসলামিক স্টেটের বর্তমান নেতা খলিফা আবু বকর আল-বাগদাদিকে জিবিত বা মৃত ধরতে আমেরিকা ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোসনা দিয়েছে।
আমেরিকা কয়েকবার গোয়েন্দা তথ্যের উপর ভিত্তি করে খলিফা আবু বকর আল-বাগদাদি উপর হামলা চালিয়েছে এবং আমেরিকা আবু বকর আল-বাগদাদিকে হত্যারও দাবি করেছে। কিন্তু আল্লাহতালার রহমতে খলিফা আবু বকর আল-বাগদাদি প্রতিবারই বেচে গেছেন। যদিও একবারের হামলা তিনি বেশ আহত হয়েছেন।

এছাড়াও ইরাক এবং সিরিয়াতে আমেরিকার বিমান হামলায় ইসলামিক স্টেটের অনেক মুজাহিদ শহীদ(ইনশাআল্লাহ) হয়েছেন এবং হচ্ছেন।

কাজেই ইসলামিক স্টেট যদি আমেরিকা বা ইসরাইলের তৈরি হত তাহলে আমেরিকা কখনই ইসলামিক স্টেটের নেতা এবং মুজাহিদদের হত্যা করত না।

ইসলামিক স্টেট বর্তমানে যুদ্ধ করছে সিরিয়া সরকার, সিরিয়া সরকারবিরোধী বিদ্রোহী সেকুলারদের সাথে।
সিরিয়া সরকারকে অস্ত্র দেয় রাশিয়া। আর সিরিয়া সরকারবিরোধী বিদ্রোহী সেকুলারদের অস্ত্র দেয় আমেরিকা।
ইসলামিক স্টেট এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে কারন তাদের ইচ্ছা মৌলবাদী শরিয়াভিত্তিক ইসলামিক শাসন প্রতিস্থা করা।

আমেরিকা ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতায় থেকে হটিয়ে বর্তমান পুতুল ইরাক সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। ইরাকের শিয়া সেনাবাহিনীকে অস্ত্র এবং প্রসিক্ষন দিচ্ছে আমেরিকা।ইসলামিক স্টেট ইরাকের কাফের শিয়া সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে ।

কুর্দি সেনাবাহিনীকে অস্ত্র এবং প্রসিক্ষন দিচ্ছে আমেরিকা। কুর্দিরা সেকুলার রাষ্ট্র গঠন করতে চায়। তাদের বিরুদ্ধে ইসলামিক স্টেট লিবিয়া যুদ্ধ করছে।

লিবিয়াতে জেনারেল হাফতার সিআইএ থেকে প্রসিক্ষন নেয়া এবং সে তা স্বীকার করে। তার বিরুদ্ধে ইসলামিক স্টেট লিবিয়া যুদ্ধরত।

বর্তমান সাউদি রাজা হচ্ছে আমেরিকার অনুগত।সাউদি রাজা নিজেকে আমেরিকার বন্ধু বলে আর আমেরিকা নিজেকে সৌদি রাজার বন্ধু বলে।
তাই সৌদি রাজার পুলিস এবং তার দেহরক্ষী সেনা বাহিনীর উপর ইসলামিক স্টেট আক্রমন চালায়।

আমেরিকা নিশ্চয়ই চাইবে না যে তার নিজের বন্ধু বা অনুগত সরকারের পতন ঘটাতে।

ইসলামিক স্টেট প্রায়ই আমেরিকা এবং ইস্রাইলের মিত্র ইউরোপের বিভিন্ন কাফের দেশগুলির উপর হামলা চালায়।

প্যালেস্টাইন এবং মিসরে ইসলামিক স্টেটের প্রতি বায়াত দেয়া জিহাদি সংগঠনগুলি গাজা এবং মিসর থেকে ইসরাইলের উপর রকেট হামলা চালায়। ইসলামিক স্টেট নিজে সরাসরি ইসরাইলের উপর হামলা চালাতে পারে না কারন ইসলামিক স্টেটের সাথে ইসরাইলের কোন সীমান্ত নাই। ইসরাইলের সাথে সীমান্ত আছে জর্ডান এবং মিসরের।
ইসলামিক স্টেট অবশ্য ঘোসনা দিয়েছে যে তারা আমেরিকা এবং ইসরাইলের দালাল জর্ডানের রাজাকে হত্যা করে জর্ডানে ইসলামিক শাসন কায়েম করবে এবং সেখান থেকে ইসরাইলে আক্রমন করে জেরুজালেম দখল করবে।
ইসলামিক স্টেট খিলাফাত কায়েমের সময়ই তাদের ঘোসনা দিয়েছিল যে, একদিন তাদের রাজধানি হবে জেরুজালেম ।
মিসরে ইসলামিক স্টেটের প্রতি বায়াত দেয়া জিহাদি সংগঠনগুলি মিসরে আমেরিকার দালাল সেকুলার সরকারের উপর প্রায়ই হামলা করে।

আমেরিকা কেন ইসলামিক স্টেটের উপর সৈন্য নিয়ে হামলা করে না?
২০০১ সালে টুইন টাউয়ারে ধ্বংস এবং আফগানিস্থান আক্রমন করার কারনে আমেরিকা বাপক অর্থনৈতিক খতির মুখে পড়ে। সেই অর্থনৈতিক ক্ষতি সামলে উঠার জন্য ২০০৩ সালে আমেরিকা ভুয়া অজুহাতে ইরাক আক্রমন করে অনেক নিরীহ মুসলিমদের হত্যা করে।
কিন্তু ইরাক দখল করে আমেরিকার তেমন অর্থনৈতিক লাভ হয় না। তারা ভেবেছিল ইরাকের তেল চুরি করে তারা অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবে বরং ইরাকে আমেরিকার সেনাবাহিনী অনেক দিন রাখতে গিয়ে আর অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে থাকে। ফলে ২০০৭ সালে আমেরিকার তরিঘরি করে ইরাক থেকে বিদায় নেয়।

আমেরিকার কিন্তু আমেরিকার নিজে বিশাল ঋণের ভারে পরে। আমেরিকার বর্তমান ঋণের পরিমান ২০ট্রিলিয়ন ডলার( ১০০০বিলিউন=১ ট্রিলিওন)
ইরাক যুদ্ধে আমেরিকার সাথে ছিল ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের বর্তমান ঋণের পরিমান ১০ট্রিলিয়ন ডলার( ১০০০বিলিউন=১ ট্রিলিওন)
লিঙ্কঃ https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_countries_by_external_debt

এই দুই দেশের ঋণের পরিমান এখন পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ।তাই তারা আর সরাসরি যুদ্ধে যেতে চায় না।

আর মাঝে মাঝে নামধারী মুসলিম (আসলে সেকুলার/ ধর্ম নিরপেক্ষ কাফের) এবং শিয়া কাফেররা প্রচার করে বেরায় যে, স্নোদেন(Edward snowden) বা উইকিলিক্স(wikileaks) বলেছে যে ইসলামিক স্টেট আমেরিকার তৈরি। তারা নিজেদের তৈরি কিছু ভুয়া ওয়েবসাইটের লিঙ্ক ব্যবহার করে সাধারন মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে।

স্নোদেন(Edward snowden) বা উইকিলিক্স(wikileaks) কখনই বলে নাই যে, ইসলামিক স্টেট আমেরিকার তৈরি। বিশ্বাস না হলে তাদের ওয়েবসাইট থেকেই দেখুন।
স্নোদেন(Edward snowden) এর ওয়েবসাইট লিঙ্ক http://www.edwardsnowden.com
উইকিলিক্স(wikileaks) এর ওয়েবসাইট লিঙ্ক http://www.wikileaks.org

ইসলামিক স্টেটকে সমর্থন করায় দুই আলেম জেলেঃ
http://www.theguardian.com/australia-news/2016/may/11/musa-cerantonio-among-men-arrested-after-allegedly-trying-to-sail-to-indonesia
http://www.independent.co.uk/news/uk/anjem-choudary-live-radical-cleric-charged-with-inviting-support-for-isis-10440227.html

খিলাফাহ “ইসলামিক স্টেট”এর বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত

খিলাফাহ “ইসলামিক স্টেট”এর বিরুদ্ধে অভিযোগসমুহঃ

১ খলিফা হলো ইহুদি বাবা মার সন্তান,
২ আমেরিকা ও ইসরাইল বহুদিন ধরে তাকে তৈরি করেছে,
৩ যৌন জিহাদ
৪ মেয়েদের খতনা করার নির্দেশে দেয়েছি
৫ ইসরাইলকে কেন আক্রমন করে না
৬ শায়েখ মাক্বদিসীর অভিযোগ
৭ খলিফার হাতে কেন রোলাক্স ঘড়ি
৮ যুদ্ধবন্ধিদের হত্যা
৯ অন্যান্য মিথ্যা অভিযোগসমূহ

 

অভিযোগগুলি যে মিথ্যা তার প্রমানঃ

১ “খলিফা আবু বকর আল-বাগদাদী হলো ইহুদি বাবা মার সন্তান” – এটা প্রচার করছে লেবাননের একটি সংবাদসংস্থা

আর লেবানন হচ্ছে শিয়া হিজবুল্লাহর ঘাটি, যারা সিরিয়াতে আসাদের পক্ষে যুদ্ধ করছে সুন্নিদের বিরুদ্ধে। খলিফা আবু বকর আল-বাগদাদীর জন্ম পরিচয় দেখুনঃ http://wp.me/p4QW8z-h

২ “আমেরিকা ও ইসরাইল বহুদিন ধরে খলিফা বাগদাদীকে তৈরি করেছে” – এটা প্রচার করছে শিয়া কিছু সংবাদপত্র আর ওয়েবসাইট, যুক্তরাষ্ট্রের পলাতক গোয়েন্দা স্নোডেনের নাম দিয়ে। কিন্তু স্নোডেন যে এটা বলে নাই তার প্রমান আল-জাজিরা, BBC বা CNN এধরননের কোন সংবাদ আসে নাই। তার থেকেও বড় কথা আবু বকর আল-বাগদাদী ISIS এর নেতা হন ২০০৬ সালে, যখন ইরাক ছিল আমেরিকার দখলে। তার নেতৃত্বে আমেরিকার বিরুদ্ধে ২০১১ সাল পর্যন্ত অনেক বড় বড় জঙ্গি হামলা করেছে ISIS। ২০১১ সালে আমেরিকা ইরাক ছেড়ে চলে যায় ।তখন থেকে তারা যুদ্ধ করছে আমেরিকার তৈরি পুতুল মালিকি সরকারের বিরুদ্ধে। আমেরিকা ২০০৭ সালে আবু বকর আল-বাগদাদীর মাথার মূল্য নির্ধারণ করে ১০০ মিলিয়ন ডলার।

৩ “যৌন জিহাদ”- এক বছর আগে শিয়ারা ISIS,জাবাত আল-নুসরা সহ সিরিয়াতে যুদ্ধরত সকল সুন্নি ইসলামী মুজাহাদিনদের বিরুধে মিথ্যা ছড়ায় যে, তারা নাকি নারীদের ব্যবহার করছে “যৌন জিহাদ” এর নামে। কিন্তু মুজাহাদিনদের সকল দল এটা অস্বীকার করে বলেন, জেনার শাস্তি ৮০ বেত্রাগাত।

৪ “মেয়েদের খতনা করার নির্দেশ” – ইসলামি স্টেট নাকি নারীদের খতনা করার নির্দেশ দেয়েছে প্রচার চালায় তাগুতি মিডিয়া Al Arabiya, Daily Star(Lebanon), ITV News, The Guardian, BBC ,Reuters এটা পুরাই বানোয়াট খবর, যা এখন এদেশের মিডিয়াতেও প্রচারিত হয়েছে।
ইসলামিক স্টেট এ ধরনের কোন নির্দেশ দেয়নি। দেখুন ইসলামিক স্টেট এর অফিসিয়াল মিডিয়া আল-হায়াত থেকে বক্তব্য
https://mobile.twitter.com/arraqqahmedia/status/492296885525553153?p=v
এবং
http://justpaste.it/fatwa_debunked

৫ “ইসরাইলকে কেন আক্রমন করে না” – এই বছরের এপ্রিল মাসে ইসরাইল সীমান্তে গোলান হাইট সংলগ্ন কিছু এলাকা দখল করতে সক্ষম হয় জাবহাত আল-নুসরা। গাজাতে ইসরাইলের ভয়াবহ হামলার আগে জাবহাত আল-নুসরা ইসরাইলের সিমান্তের কাছে থাকলেও তারা ইসরাইলকে আক্রমন করে নাই।
http://www.religiousfreedomcoalition.org/2014/04/26/al-qaeda-captures-part-of-the-golan-heights/
ISIS কেন ইসরাইলকে আক্রমন করে নাই এই ছবিটি তার উত্তর।

2000px-syria8

 

৬ “শায়েখ মাক্বদিসীর অভিযোগ” – সৌদি বাদশাহর বন্ধু জর্ডান বাদশাহ খিলাফাতের বিরোধী শায়েখ মাক্বদিসীকে হটাত মুক্তি দেয় “ইসলামিক স্টেইট”-এর বিরুধিতা করার শর্তে
http://www.aljazeera.com/news/middleeast/2014/06/jordan-releases-anti-isil-salafi-leader-2014617121457552506.html
আর এখন সউদি সন্ত্রাস দমন ইউনিট “ইসলামিক স্টেইট”-এর বিরুদ্ধে দেওয়া মাক্বদিসী’র বক্তব্যকে নিজেদের লাভে ব্যবহার করছে!
মনে রাখবেন, “ইসলামিক স্টেইট”-কে খারেজী প্রমান করার অপচেষ্টার সাথে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাদশাহী শাসকদের তাদের দেশে ইসলামী আন্দোলন ঠেকানোর খায়েশের সাথে মিলে যাচ্ছে,যাতে বাতাস দিচ্ছেন “ইসলামিক স্টেইট”এর বিরোধিতা করার জন্য সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত মুফতি আল-মাক্বদিসী।

জর্ডান থেকে আত-তাওহীদ ওয়াল জিহাদ খালীফাহ ইবরাহিম শাইখ আবু বকর বাগ্বদাদী আল-ক্বুরাঈশী(হাফিযাহুল্লাহ)’র প্রতি বাই’য়াত ঘোষনা করেছে
এবং শাইখ মাক্বদিসী’র সকল ফতওয়া প্রত্যাখান করেছে আল’হামদুলিল্লাহ!
শাইখ মাক্বদিসী নিজের ঘরের আল-ক্বায়িদাহপন্থী মুজাহিদীন’দের দ্বারাই প্রত্যাখ্যাত হলেন!
http://justpaste.it/gbpx

 

৭ খলিফার হাতে কেন রোলাক্স ঘড়িঃ আবু বকর আল বাগদাদি(হাফি) খুতবা দেয়ার সময় যে ঘড়িটি পরেছিলেন তার নাম “আল-ফজর ২৬০ মডেল “। এই ঘরিটি আরবে বহুল প্রচলিত।
এই ঘড়ি বিশেষ বৈশিষ্ট হচ্ছে যে এটা দিয়ে বছরের সকল সময়ে বিভিন্ন এলাকার নামাজের সময়ের হিসাব রাখা যায়।

৮ যুদ্ধবন্ধিদের হত্যাঃ ২ পোস্টে বিস্তারিত

 

৯ অন্যান্য মিথ্যা অভিযোগসমূহ ভিত্তিহীন প্রমানিত

“Islamic State burns down churches in Mosul” DEBUNKED
http://justpaste.it/mosul_debunked

Islamic State soldier forces marriage on 9 year old Christian girl DEBUNKED
http://justpaste.it/wahhabi_debunked

Many lies that originated from Kurdish Media and Activists DEBUNKED
http://justpaste.it/kurdish_lies

Islamic State buried young girls alive DEBUNKED
http://justpaste.it/buried_debunked

Islamic State Islamic State sells slave girls in Raqqah DEBUNKED
http://justpaste.it/selling_debunked

France24 admits there is a lot of false publicity about the State,including the almost year-old dictate demanding women be circumcised:

http://observers.france24.com/content/20140812-slavery-genital-mutilation-collective-marriage-fake-isis-images

 

MORE INFORMATION HERE

https://justpaste.it/liesdebunkedis

http://www.liveleak.com/view?i=383_1409350382

https://www.youtube.com/watch?v=6I9A0yZsBBE

 

ইরানি শিয়া সৈন্যরা ইসলামিক স্টেটের মুজাহিদিন সেজে নিরপরাধ ইরাকি সুন্নিদের মুসলিমদের হত্যা করে ইসলামিক স্টেটকে দোষী করতে চাচ্ছে। ছবিঃ

Untitled

খিলাফাহ কায়েম করা যে কারনে ফরজ

সালাত কায়েম করা ফরজ। ওজু করা সাধারন অবস্থায় ফরজ না হলেও সালাত আদায় করার জন্য ওজু ফরজ হয়ে যায়। এ থেকে আমরা স্পষ্ট বুজতে পারি যে, ফরজ ইবাদত যদি অন্য কোন কাজের উপর নির্ভর করে তবে সেই কাজটিও ফরজ হয়ে যায়।

ইসলামিক শাসন কায়েম করা ফরজ। ইসলামিক শাসন কায়েম করার জন্য রাসুল(সাঃ) নির্দেশিত এবং সাহাবিদের অনুসারিত পথ হচ্ছে “খিলাফাহ”।

আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ
“বনী ইসরাইলকে পরিচালনা করতেন তাদের নবীগণ। এক নবী মৃত্যু বরণ করলে আরেক নবী তার স্থানে এসে দায়িত্ব পালন করতেন। তবে আমার পরে কোন নবী আসবে না; আসবে খালীফাহ’গণ এবং তারা সংখ্যায় বাড়বে।” (সহীহ বুখারী)

সাহাবিদের অনুসারিত পথঃ
কারন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)এর মৃত্যুর পর সাহবীরা রাসূলুল্লাহ(সাঃ)-এর লাশ দাফন করতে ২ রাত বিলম্ব করেছিলেন শুধু কে খালীফাহ হবে এটা নির্ধারন করতে যেয়ে।  [ তথ্যসূত্রঃ সীরাতে ইবনে হিশাম ]

এটা সবারই জানা ছিল যে কোনও ব্যক্তির দাফন একটা ফরজ কাজ এবং যারা এটা করবে তারা দাফন কার্যের পূর্বে তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ কোনও কাজে নিজেদেরকে নিশ্চয়ই নিযুক্ত করবে না। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)এর মৃত দেহকে দাফনের চেয়েও একজন খালীফাহ’র নিয়োগ অধিক গুরুত্বপূর্ণ উপরোক্ত ঘটনার মাধ্যমে সাহাবীরা এ ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছিলেন। যদিও কখন কাকে খালীফাহ নিয়োগ দেয়া হবে এটা নিয়ে সাহাবীদের মাঝে মত পার্থক্য হয়েছিল কিন্তু একজন খালীফাহ যে সব সময় থাকতেই হবে এই ব্যাপারে সাহাবীরা একমত ছিলেন।

কাজেই খিলাফাহ কায়েম করা হচ্ছে ফারদুল কিফাইয়া (যদি যথেষ্ঠ সংখ্যা দ্বারা সম্পাদিত করা হয় তাহলে বাকিদের উপর থেকে ফরজের বিধান উঠে যায়) যে মুসলিমরা একজন কুরাইশি খলিফাহকে নিযুক্ত করবে যিনি আল্লাহর শারিয়াহ দ্বারা শাসন করবে এবং এটি মুসলিম উম্মাহর গুরুত্তপূর্ণ ফরজ কাজগুলোর মধ্যে একটি। পুরো উম্মাহ গুনায় লিপ্ত থাকবে যদি তাদের সামর্থ্য থাকা সত্তেও তারা এই ফরজ কাজকে কায়েম না করে।

এছাড়াও, আরেকটা ফরজ কাজ যেটা হচ্ছে ফারদুল আইন (ফরজ কাজ যেগুলো প্রত্যেক ব্যক্তিকে সম্পাদিত করতে হবে) তা হলো উম্মাহকে খলিফাহর কাছে বায়াত দেয়া, শুনার এবং মানার জন্য কারণ আল্লাহ(সুবঃ) বলেছেনঃ
“হে ঈমানদার মানুষেরা, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, আনুগত্য করো (তার) রাসুলের এবং সেসব লোকদের, যারা তোমাদের মাঝে দায়িত্বপ্রাপ্ত”

আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ “বনী ইসরাইলকে পরিচালনা করতেন তাদের নবীগণ। এক নবী মৃত্যু বরণ করলে আরেক নবী তার স্থানে এসে দায়িত্ব পালন করতেন। তবে আমার পরে কোন নবী আসবে না; আসবে খালীফাহ’গণ। যখন কাউকে খলিফা মনোনীত করা হবে তখন তোমরা তাকে বায়াত দিও, তার উপর অর্পিত দায়িত্তের হিসাব পরকালে নেয়া হবে” (সহীহ বুখারী)

এবং নাবী মুহাম্মাদ(সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে যে, সে ইমাম (শাসক)-এর আনুগত্যের বায়াত করে নি, সে জাহিলিয়াতের মৃত্যুবরণ করলো”। (সাহিহ মুসলিম)

এরপরও কেউ যদি ইসলামিক শাসন কায়েমের জন্য রাসুল(সাঃ) নির্দেশিত এবং সাহাবিদের অনুসারিত পথ “খিলাফাহ” বাদ দিয়ে অন্য কোন পদ্ধতি  অনুসরন করে তাহলে সে নিজের ধ্বংস নিজের উপর ডেকে আনল।

খলিফাকে অবশ্যই কোরাইশ বংশের হতে হবে

খলিফা হওয়ার শর্ত,তাকে কোরাইশ হতে হবে  । কারনঃ

ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলূল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “খেলাফত কুরাইশদের মধ্যে সর্বদা বিরাজমান থাকবে। এমনকি তাদের মধ্য থেকে দু’জন লোক অবশিষ্ট থাকলেও।”
সহি বুখারি ৮৯/২৫৪ , সহি মুসলিম ৪৪৭৬
লিঙ্কঃ http://sunnah.com/bukhari/93/4
http://sunnah.com/muslim/33/4

সকল যোগ্য খলিফারাই কোরাইশ হবেন,তার প্রমানঃ
অনেক সাহাবীদের থেকে বর্ণিত, রাসুল(সাঃ) বলেছেন, “১২জন খলিফা হবে। তাদের প্রত্যকেই কুরাইশ বংশীয় হবে ”
সহি বোখারী ৯/৩২৯ ,সহি মুসলিম ৪৪৭৭, ৪৪৭৮, ৪৪৭৯, ৪৪৮০, ৪৪৮১,৪৪৮২,৪৪৮৩, আবু দাউদ ৪৪৭৯
লিঙ্কঃ
http://sunnah.com/bukhari/93/82
http://sunnah.com/muslim/33/5  http://sunnah.com/muslim/33/6  http://sunnah.com/muslim/33/7  http://sunnah.com/muslim/33/8  http://sunnah.com/muslim/33/9  http://sunnah.com/muslim/33/10  http://sunnah.com/muslim/33/11
http://sunnah.com/abudawud/38/1

হযরত মুআবিয়া রা.বলেন, আমি রাসুল সা. মুখে শুনেছি তিনি বলেছেন,খিলাফতের পদ কোরাইশ বংসের মধ্যে থাকবে যাবত এই বংসের লোকজন পূর্ণাঙ্গ দ্বীন-ইসলামের ধারক বাহক থাকে। এরুপ ক্ষেত্রে কেহ তাদের প্রতি শুত্রু ভাবাপন্ন হলে আল্লাহ তায়ালা তাকে পরাস্থ ও অপদস্থ করবেনই।
সহি বোখারী ৮৯/২৫৩
http://sunnah.com/bukhari/93/3

রাসুল(সাঃ) বলেছেন, “খিলাফাত হতে হবে কোরাইশদের মধ্যে থেকে, তাদের মধ্যে থেকে সৎ ব্যক্তিরা হচ্ছে সৎ ব্যক্তিদের নেতা আর অসৎ ব্যক্তিরা হচ্ছে অসৎ ব্যক্তিদের নেতা”
হাদিসটি সমর্থন করেছেন, মুসনাদে আহমাদ, সুনান আল-নাসায়ি  এবং মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ

আবু হোরায়রা(রা) থেকে বর্ণিত, রাসুল(সাঃ) বলেছেন, মানুষ কোরাইশদের আনুগত্য করে, সৎ ব্যক্তিরা করে সৎ ব্যক্তিদের আর অসৎ ব্যক্তিরা করে অসৎ ব্যক্তিদের।
সহি মুসলিম ৪৪৭৩ এবং ৪৪৭৪
http://sunnah.com/muslim/33/1
http://sunnah.com/muslim/33/2

জাবির বি. আবদুল্লাহ(রা) থেকে বর্ণিত, রাসুল(সাঃ) বলেছেন, মানুষ কোরাইশদের আনুগত্য করে ভাল এবং মন্দে (অর্থাৎ ইসলামের আগের যুগে এবং ইসলামের পরের যুগে)
সহি মুসলিম ৪৪৭৫
http://sunnah.com/muslim/33/3

স্মরণ করুন, রাসুলুল্লাহ সাঃ এর ইন্তিকালের পর মুহাজির আর আনসাররা মদীনার দুই প্রান্তে ইসলামের খলিফা নির্বাচনের জন্য আলাদা আলাদা বসেছিলো। দুপক্ষই খলিফা হবার ব্যাপারে নিজেদের হক বেশী বলে দাবী করছিলো।
এমন অবস্থায় উমর (রাঃ)  আবু বকর(রাঃ) কে নিয়ে আনসারদের মজলিশে গিয়ে এক ভাষণ দেন, যাতে তিনি তাদেরকে রাসুল(সাঃ)এর হাদিস স্মরণ করিয়ে দেন যে, খিলাফার নেতৃত্বে প্রাধান্য পাবে কুরাইশরা। এরপর তিনি আবু বকরের হাতে বায়াত গ্রহণ করেন।
অধিকাংশ আনসার তাঁদের ভুল বুঝতে পেরে আবু বকর (রাঃ) এর হাতে বায়াত দেন।

অনেকেই প্রশ্ন করে বংশ কেন গুরুত্বপূর্ণ ? ———————————- 
তাহলে দেখুন বনী ইসরাইল বংশের দিকে, যাদের আল্লাহ সমগ্র বিশ্ববাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলেন।
“আমি বনী ইসরাঈলকে কিতাব, রাজত্ব ও নবুওয়ত দান করেছিলাম এবং তাদেরকে পরিচ্ছন্ন রিযিক দিয়েছিলাম এবং বিশ্ববাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম।” সূরা আল জাসিয়া 16

বনী ইসরাইল বংশে নবীদের সন্তানরা নবী হতেন এবং রাজ্য পরিচালনা করতেন।যেমনঃ সোলায়মান(আঃ), দাউদ(আঃ) সহ অন্যান্য নবীগন। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ “বনী ইসরাইলকে পরিচালনা করতেন তাদের নবীগণ। এক নবী মৃত্যু বরণ করলে আরেক নবী তার স্থানে এসে দায়িত্ব পালন করতেন। তবে আমার পরে কোন নবী আসবে না; আসবে খালীফাহ’গণ।” (সহীহ বুখারী)
আল-ক্বুর’আনে উল্লেখ আছে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন একের উপর অন্যকে মর্যাদা দান করেন তার ইচ্ছা অনুযায়ীঃ “আল্লাহ তা’আলা জীবনোপকরণে তোমাদের একজনকে অন্যজনের চাইতে শ্রেষ্টত্ব দিয়েছেন।” সূরা নাহল ৭১
“আমি তো কতক পয়গম্বরকে কতক পয়গম্বরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি এবং দাউদকে যবুর দান করেছি। ” সূরা বনী ইসরাঈল ৫৫
“এই রসূলগণ-আমি তাদের কাউকে কারো উপর মর্যাদা দিয়েছি।” সূরা আল বাক্বারাহ ২৫৩

ইমাম মেহেদী হবেন শেষ খলিফা এবং কুরাইশঃ
আমাদের প্রিয় নবী রাসুল(সাঃ) ছিলেন ইসমাইল(আঃ) বংশোদ্ভূত । আর ইমাম মাহদী হবেন রাসুল(সাঃ) বংশোদ্ভূত। আলী(রাঃ), আবু সাইদ(রাঃ),আবু হোরায়রা(রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসুল(সাঃ) বলেছেনঃ কিয়ামত ততদিন আসবে না যতদিন না একজন ব্যক্তি যে হবে আমার পরিবার থেকে, যার নাম হবে আমার নামে এবং সে পুরো আরব শাসন করবে। তিরমিজি সাহিহ ভলিউম ৯ পৃষ্ঠা ৭৪, আবু দাউদ ভলিউম ৫ পৃষ্ঠা ২০৭

উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালামা রাযিয়াল্লাহু আনহা কর্তৃক হতে বর্নিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন , “শেষ যুগে খলিফার মৃত্যুর পর নেতৃস্থানীয় লোকদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিবে পরবর্তী খলিফা কে হবে তা নিয়ে। তখন মদীনা থেকে একব্যাক্তি বের হয়ে মক্কার দিকে ছুটে পালাবে। এ সময় মক্কাবাসীগন তার নিকট এসে তাকে জোরপূর্বক বের করে আনবে। কিন্তু সে তা পছন্দ করবে না। প্রকৃতপক্ষে এই ব্যক্তিই ইমাম মেহেদী। অতঃপর হাযারে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহীমের মধ্যবর্তী স্থানে লোকেরা তার কাছে বায়াত গ্রহন করবে। এরপর সিরিয়া থেকে একটি সেনাবাহীনি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য পাঠানো হবে। কিন্তু মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী বাইদা নামক স্থানে তাদেরকে ভূগর্ভে পুঁতে ফেলা হবে। তারপর যখন চারদিকে এই খবর ছড়িয়ে পরবে এবং লোকেরা চাক্ষুষভাবে এই অবস্থা দেখবে তখন শামের (বর্তমান সিরিয়া)আবদাল গন এবং ইরাকের এক বিরাট দল তার কাছে আসবে ও তার কাছে বায়াত গ্রহন করবে। এরপর কোরাইশদের এক ব্যাক্তি যার মাতুল বংশ হবে বনু কালব , সেও ইমামের বিরুদ্ধে একদল সৈন্য পাঠাবে। ইমামের সেনাবাহীনি তাদের উপর বিজয়ী হবে। এটাই কালবের উত্থান। ইমাম মানুষের মধ্যে নবীর আদর্শ মোতাবেক কাজ কর্ম পরিচালনা করবেন এবং তার শাসনামলে ইসলাম সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে। তিনি সাত বছর অবস্থান করবেন। তারপর ইন্তেকাল করবেন এবং মুসলমানগন তার জানাযা পড়বে”।
( আবু দাঊদ,মেশকাত)

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “ইমাম মেহেদী হবে আমার পরিবার থেকে ” আবু দাউদ সহি ২/২০৭, ইবনে মাজাহ সহি ২/৫১৯
ইমাম মেহেদি রাসুল(সাঃ)এর বংশোদ্ভূত হবেন এ সংক্রান্ত আরও অনেক সাহিহ হাদিস এসেছে ।

এমনকি একটি মেয়েকে বিয়ের পূর্বে ৪টি বিষয় দেখতে বলেছেন রাসুল(সাঃ), তার মধ্যে একটি হচ্ছে বংশ। (সহীহ বুখারী)

২০১১সালে শহীদ(ইনশা’আল্লাহ) আনোয়ার আল-আওলাকি(রহঃ) জানিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক প্রতিষ্ঠার ঘোষণা এবং এর নেতা হোসেন(রাঃ) বংশধর হওয়া, অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। হতেও পারে এটি টিকে থাকবে এবং পরবর্তী খিলাফাহ হবে অথবা ধ্বংস হয়ে যাবে, কারন যে কোন ইসলামিক রাষ্ট্রের উত্থানের বিরুদ্ধে প্রচুর ষড়যন্ত্র হবে।আমি বিশ্বাস করি এটা একটা অবিস্মরণীয় ঘটনা। …” তার বক্তব্য দেখুনঃ https://www.youtube.com/watch?v=SIVN1eAySMw

একজন খলিফা থাকা কালে অন্যজন খিলাফাত ঘোষণা করলে তাকে হত্যা করা জায়েজঃ
আবু সাইদ আল-খুদরি থেকে বর্ণিত, রাসুল(সাঃ) বলেছেন, “যখন একজনের কাছে খলিফার বায়াত দেয়া হয়, তখন পড়ে যে খলিফার বায়াত নেয় তাকে হত্যা কর।
সহি মুসলিম ৪৫৬৮, ৪৫৬৫, ৪৫৬৬,৪৫৬৭
http://sunnah.com/muslim/33/96
http://sunnah.com/muslim/33/93
http://sunnah.com/muslim/33/94
http://sunnah.com/muslim/33/95

খলিফার বায়াত ছাড়া মৃত্যু জাহিলিয়াতের মৃত্যুঃ
অনেক সাহাবীদের থেকে বর্ণিত, রাসুল(সাঃ) বলেছেন, “মুসলিমদের কেন্দ্রীয় নেতার(খলিফা) কাছে বায়াত দেয়া ছাড়া মৃত্যু হচ্ছে জাহিলিয়াতের মৃত্যু।
সহি মুসলিম ৪৫৫৫,৪৫৫৬,৪৫৫৭,৪৫৫৮,৪৫৫৯,৪৫৬০,৪৫৬১,৪৫৬২,৪৫৬৩,৪৫৬৪
http://sunnah.com/muslim/33/83  http://sunnah.com/muslim/33/84  http://sunnah.com/muslim/33/85  http://sunnah.com/muslim/33/86  http://sunnah.com/muslim/33/87  http://sunnah.com/muslim/33/88  http://sunnah.com/muslim/33/89  http://sunnah.com/muslim/33/90  http://sunnah.com/muslim/33/91  http://sunnah.com/muslim/33/92

আমীর(নেতা) এবং খলিফা এক নয়ঃ
একজন কালো আজাদ ক্রিতদাসও মুসলিমদের একঅংশের নেতা হতে পারে কিন্তু খলিফা নয়।  কারন “আমীর(নেতা)” বা “আমিরুল মুমিনীন” শব্দটি ‘আম’ বা ‘সাধারন’ যা অনেকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যেমনঃ কয়েকশ মুমিনের একজন আমীর থাকতে পারে এবং তাকে “আমিরুল মুমিনীন” বলা যাবে।আমীর শব্দের অর্থ হচ্ছে নেতা বা যে আদেশ দেয়। কাজেই আমিরুল মুমিনিন শব্দের অর্থ হচ্ছে মুমিনদের নেতা।
যেমনঃ ১৯৯৬ সালে কিছু তালেবান মিলে মোল্লাহ উমর(হাফিঃ)কে “আমিরুল মুমিনীন” ঘোষণা দেন।যখন তাকে “আমিরুল মুমিনীন” ঘোষণা দেয়া হয়, তখন আফগানিস্থানের বাইরে কেউ তার নামই শুনে নাই।
একটি খিলাফাহের ভিতরে যেমন কয়েকটি আমিরাত থাকতে পারে, তেমনি একজন খলিফার অধীনে কয়েকজন “আমীর(নেতা)” বা “আমিরুল মুমিনীন” থাকতে পারেন। যেমনঃ সায়েখ আইমান আল-জাওাহিরি ২০০৬ সালে ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক গঠিত হবার পর আবু উমার আল বাগদাদিকে আমিরুল বলেছেন। সেই সাথে একই সময়ে মোল্লাহ উমরকেও আমিরুল মুমিন বলে সম্বোধন করেছেন। লিঙ্কঃ https://www.youtube.com/watch?v=0Z5dyMM-KWs

ক্বুর’আন, হাদিস, ইজমা, ফিক্বহ এবং সকল মাযহাবের আলোকে আরও বিস্তারিত ভাবে জানতে দেখুনঃ http://www.ghuraba.info/en/ybahrumi/the-khilafah-is-only-for-quraysh/
https://supporterskhalifat.wordpress.com/2014/11/14/the-khilafah-is-only-for-quraysh-yahya-al-bahrumi/

খলিফা নির্বাচনের বৈধতা এবং “আহল আল-হাল্লি ওয়াল-আক্বদ”

রাসূলুল্লাহ (সাঃ)এর মৃত্যুর পর সাহবীরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)এর লাশ দাফন করতে ২ রাত বিলম্ব করেছিলেন শুধু কে খলিফা হবে এটা নির্ধারন করতে যেয়ে। [ তথ্যসূত্রঃ সীরাতে ইবনে হিশাম ]

এটা সবারই জানা ছিল যে কোনও ব্যক্তির দাফন একটা ফরজ কাজ এবং যারা এটা করবে তারা দাফন কার্যের পূর্বে তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ কোনও কাজে নিজেদেরকে নিযুক্ত করবে না। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)এর মৃত দেহকে দাফনের চেয়েও একজন খলিফার নিয়োগ অধিক গুরুত্বপূর্ণ উপরোক্ত ঘটনার মাধ্যমে সাহাবীরা এ ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছিলেন।

সাহাবীরা হযরত আবু বকরের মৃত্যুর পর হযরত উমর এরপর হযরত ওসমান এরপর হযরত আলী (রাঃ)কে খলিফা নিয়োগ দিয়েছিলেন। যদিও কখন কাকে খলিফা নিয়োগ দেয়া হবে এটা নিয়ে সাহাবীদের মাঝে মত পার্থক্য হয়েছিল কিন্তু একজন খলিফা যে সব সময় থাকতেই হবে এই ব্যাপারে সাহাবীরা একমত ছিলেন।

আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ
“বনী ইসরাইলকে পরিচালনা করতেন তাদের নবীগণ। এক নবী মৃত্যু বরণ করলে আরেক নবী তার স্থানে এসে দায়িত্ব পালন করতেন। তবে আমার পরে কোন নবী আসবে না; আসবে খলীফাগণ।”
(সহীহ বুখারী)

খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার জন্য “আহল আল-হাল্লি ওয়াল-আক্বদ”(১) এর সম্মতি গ্রহনের ব্যাপারে, যদি আমরা একে শর্ত হিসেবে ধরেও নেই, তবু আমরা বলতে পারি যে, যদি “আহল আল-হাল্লি ওয়াল-আক্বদ” ইমাম নির্বাচনের ব্যাপারে সিদ্ধান্তে না আসতে পারে, হোক তা একদিনের জন্য বা তিন দিন বা এক বছর বা হাজার বছর, তবে সেই অমনোযোগী মানুষগুলির জন্য আল্লাহ’র দ্বীন দুনিয়াতে বাস্তবায়ন স্থগিত হয়ে পড়বে, যার অনুমতি আল্লাহ আমাদের দেননি!

“আহল আল-হাল্লি ওয়াল-আক্বদ” একটি বিশেষ শব্দ যা আপনারা ক্বুর’আন বা হাদিসে পাবেন না। এটা সেই ৬ জনকে বোঝায় যাদের ‘উমার ইবনে খাত্তাব(রাঃ) তার মৃত্যুর সময় দায়িত্ব দিয়েছেলেন, যাতে তারা নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে খালীফাহ নির্বাচন করতে পারেন। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। এই বিষয়টি হচ্ছে ‘উমার(রাঃ)-এর ইজতিহাদ এবং যেহেতু এটা শারী’য়াহ বিরোধী নয়, কাজেই এটা অনুমোদনযোগ্য কিন্তু বাধ্যতামূলক না। এটাকে বাধ্যতামূলক মনে করে আবু বকর আল-বাক্বিলানি এবং তার মত অন্যরা, তাদের নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে, শারী’য়াহ_র ভিত্তিতে না।(২)

আহমাদ ইবনে হাম্বাল(রহঃ) বলেছেনঃ
ইমামাত বিশেষ শর্ত ছাড়া কার্যকরী না […] তাই যদি ইসলামের ‘উলামা’দের দ্বারা গঠিত “আহল আল-হাল্লি ওয়াল-আক্বদ” এবং তাদের বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেয়া হয় অথবা ইমাম নিজে ক্ষমতা নিয়ে নেয় এবং মুসলিম’রা তাতে সম্মত হয় তাহলে তা কার্যকরী।(৩)

তিনি এইখানে দুইটি বিষয় উল্লেখ করেছেন, দুইটিরই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে “আহল আল-হাল্লি ওয়াল-আক্বদ”-এর সম্মতি আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে ইমাম নিজে ক্ষমতা নিয়ে নিলে এবং মুসলিম’রা যদি তাতে সম্মত হয়। আমাদের মতামত হচ্ছে, যদি মুসলিম’দের একটি দল সম্মত হয় তাহলেই যথেষ্ট।

এটা সম্ভব নয় যে এই দুনিয়ার সব মুসলিমকে সম্মত হতে হবে একজন খালীফাহ’র পক্ষে, তা না হলে তার নেতৃত্ব গ্রহণযোগ্য হবে না। আবু বকর(রা) খালীফাহ’র যোগ্য হলেন যখন ‘উমার(রাঃ), ‘উবাইদাহ(রাঃ) এবং তার সাথের আনসাররা তাকে বাই’য়াত দেন, যদিও তখন অনেক বড় বড় সাহাবীরা তাকে বাই’য়াত দেননি।

আমাদের প্রমাণ নবী(সাঃ)এর সুন্নাহঃ তিনি খালীফাহ’র জন্য আবু বকর(রাঃ) নাম উল্লেখ না করে মারা যান। বরং তিনি সালাতের নেতৃত্ব আবু বকর(রাঃ)-কে দিতে বলেন। এই নির্দেশের কারনে কিছু সাহাবী যেমনঃ ‘উমার(রাঃ) বুঝতে পারেন আবু বকর(রাঃ) হলেন রাসূল(সাঃ) পরবর্তী মনোনীত নেতা। আবু বকর(রাঃ), ‘উমার(রাঃ) এবং ‘উবাইদাহ(রাঃ) এই ইজতিহাদটি করেন যে পর্যন্ত না তারা সম্মত হন আবু বকর(রাঃ) হবেন খালীফাহ। বলা যায় যে, ‘উমার(রাঃ) এক ব্যক্তিই, বাই’য়াত নেয়া শুরু করেন এবং পরে অন্যান্যরা সেটা ওয়াজিব বুঝতে পেরে তাকে অনুসরন করেন।

মাত্র ৬ জন সাহাবী’কে “আহল আল-হাল্লি ওয়াল-আক্বদ” বলার মানে হচ্ছে মুসলিম উলামা’দের মধ্যে একটি অংশ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে অন্য অংশের সাথে আলাপ না করে। কাজেই বলা যায় যে, “ইসলামিক স্টেইট”-এর যে ‘উলামা’রা শাইখ আবু বকর আল-বাগ্বদাদিকে খালীফাহ নিযুক্ত করেছেন, সেই উলামা’রাই হচ্ছেন “আহল আল-হাল্লি ওয়াল-আক্বদ”। কাজেই তাদের সিদ্ধান্তের অবমাননা হচ্ছে একটি বৈধ আলেম পরিষদের অবমাননা।

কাজেই বাই’য়াত ৩-এর অধিক উপায়ে নেওয়া যায় (নির্ভর করে একজনের ইজতিহাদের উপর), আল্লাহ ভাল জানেন। আগের ইমাম’গনের নির্দেশ অনুযায়ী, মুসলিম উলামা’দের “আহল আল-হাল্লি ওয়াল-আক্বদ” অথবা একজন মুসলিমের ইজতিহাদ – যখন ইমাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়।

যদি বলা হয় আবু বকর(রাঃ) খিলাফাহ ততক্ষণ বৈধ না যতক্ষণ না অধিকাংশ সাহাবীরা তাকে খালীফাহ মেনে নিয়েছেন, কাজেই বর্তমানে খিলাফাহ ক্বায়েমের জন্য দুনিয়ার অধিকাংশ উলামা’দের অনুমতি লাগবে(দরবারী আলেমসহ) তাহলে আমরা বলি, ক্বুর’আন এবং সুন্নাহ’তে এই কথার পক্ষে কোন প্রমান নাই । বরং হাদিসে বলা আছে যে, “একজনকে খালীফাহ’র বাই’য়াত দেওয়ার পর, অন্য কেউ যদি খালীফাহ’র জন্য প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে, তাহলে তাকে হত্যা করো।

কেউ বলতে পারে, আমরা যদি এটা গ্রহন করি তাহলে পৃথিবীতে অনেকেই খিলাফাহ ঘোষণা করবে। আমরা বলিঃ শুধু প্রথম জনকে ব্যতীত বাকি সবাইকে হত্যা করা হবে কারন রাসুল(সাঃ) বলেছেনঃ
“যে খালীফাহ’কে বাই’য়াত দিবে হাত দিয়ে এবং মন দিয়ে, সে খালীফাহ’কে অনুসরন করতে বাধ্য, যদি সক্ষম হয়। যদি কেউ খালীফাহ’র পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে আসে, তাকে যেন তার গর্দানে আঘাত করে।”(৪)

রাসুল(সাঃ) বলেছেন, ”যে খালীফাহ’কে বাই’য়াত দিবে” রাসুল(সাঃ) এটা বলেননি, “যে মুসলিম’দের দ্বারা নির্ধারিত খালীফাহ’কে বাই’য়াত দিবে”। তাই বাই’য়াত যদি একজনের দ্বারাও প্রতিষ্ঠিত হয় তবে যে পরে খিলাফাহ ঘোষণা করবে তাকে হত্যা করতে হবে।

উপসংহারে, যদি ক্বুরাঈশ’দের মধ্যে একজন জ্ঞানী ব্যক্তিকে তার কথা শুনে এবং তাকে মেনে বাই’য়াত দেওয়া হয় এবং তার কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকে তবে তিনি হবেন মুসলিম’দের ইমাম, আমী’রুল মু’মিনীন এবং সারা দুনিয়ার খালীফাহ।

যে তাকে বাই’য়াত দেয় না সে একটি বড় পাপ করল। কারন আল্লাহর রাসুল(সাঃ) বলেছেনঃ
যে আনুগত্য থেকে হাত তুলে নেয় সে শেষ বিচারের দিন আল্লাহ’র মুখোমুখি হবে কোন দলীল ছাড়া। যে খালীফাহ’কে বাই’য়াত না দিয়ে মারা যায়, তার মৃত্যু জাহিলিয়াতের মৃত্যু।(৫)

———————তথ্যসূত্র ———————

(১) “সমস্যা সমাধান এবং সম্মতির জন্য নিযুক্ত ব্যক্তি”, এখানে ‘উলামা এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে।

(২) আল-বাক্বিলানি, তামহিদ আল-আওাইল ওয়া তালখিস আল-দালাইল(১/৪৬৭)

(৩) আহমাদ, আল-আক্বিদাহ বি-রিওায়াহ আল-খাল্লাল(১/১২৪)

(৪) সাহীহ মুসলিম ১৮৪৪

(৫) সাহীহ মুসলিম ১৮৫১

=====================================

http://www.ghuraba.info/en/ybahrumi/ahl-al-hall-wal-ʿaqd/

খালীফাহ ইবরাহিম শাইখ আবু বকর বাগ্বদাদি আল-ক্বুরাঈশী(হাফিযাহুল্লাহ) এর জীবনী

আমীরুল মু’মিনীন(বিশ্বাসীদের নেতা) খালীফাহ ইবরাহিম শাইখ আবু বকর বাগ্বদাদি আল-ক্বুরাঈশী(হাফিযাহুল্লাহ) এর জীবনীঃ

নামঃ- আবু দু’আ, ইবরাহিম বিন ‘আওয়াদ বিন ইবরাহিম আল-বাদরী আল-রাদাউয়ি আল-হুসাইনি আল-সামারায়ি। তিনি আল-সাদা আল-আশারাফ আল-বাদরিয়্যিন(আল-বু’বাদরি) আল-রাদাউইয়া আল-হুসাইনিয়্যা আল-হাশিমিয়্যাহ আল-ক্বুরাঈশিয়া আল-নিজারিয়া আল-আদনানিয়া – এর বংশধর।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে তাঁর বংশধারা :

من أحفاد عرموش بن علي بن عيد بن بدري بن بدر الدين بن خليل بن حسين بن عبد الله بن إبراهيم الأواه بن الشريف يحيى عز الدين بن الشريف بشير بن ماجد بن عطية بن يعلى بن دويد بن ماجد بن عبد الرحمن بن قاسم بن الشريف إدريس بن جعفر الزكي بن علي الهادي بن محمد الجواد بن علي الرضا بن موسى الكاظم بن جعفر الصادق بن محمد الباقر بن علي زين العابدين بن الحسين بن علي بن أبي طالب وفاطمة بنت محمد رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم

 বৈবাহিক অবস্থাঃ- বিবাহিত

তিনি একজন প্রাক্তন শিক্ষক এবং প্রশিক্ষক, অধিকন্তু সুপরিচিত দা’য়ীহ এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাগ্বদাদ থেকে স্নাতক, তিনি একাডেমিক পর্যায়ে শিক্ষা অর্জন করেছেন(ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি)। তিনি ইসলামী সংস্কৃতি, শারী’য়াহ-এর জ্ঞান এবং ফিক্বহ-এর উপর আলোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তিনি ইতিহাসবিজ্ঞান এবং বংশধারার উপর বিশেষজ্ঞ। ইসলামিক স্টেইট অফ ‘ইরাক্ব এবং এর প্রথম আমীর (আবু ‘উমার আল-বাগ্বদাদী আল-ক্বুরাঈশী)-কে স্বেচ্ছায় এবং সম্পূর্ণরূপে বাই’য়াত দেয়া পর্যন্ত তাঁর গোত্র দিয়ালা এবং সামাররা-এর গোত্রসদস্যদের সাথে তাঁর প্রশস্ত সম্পর্ক এবং গভীর প্রভাব ছিল, যা ছিল তাদের বাই’য়াত আমীরের প্রতি এবং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে এর(রাষ্ট্র) প্রতি – ২০০৬ সালের রামাদ্বান মাসের শেষ দিনগুলোতে যা (রাষ্ট্র) অনুষ্ঠানিকভাবে ভাবে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, যার ফলে ‘ইরাক্বে জিহাদি রণক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছিল।

এটা সর্বজন বিদিত যে খালীফাহ ড. ইবরাহিম আও’য়াদ হলেন আল-সালাফিয়াহ ওয়াল জিহাদিয়াহ-এর একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং দিয়ালা ও সামাররা শহরে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) মাসজিদের গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিকদের মধ্যে অন্যতম । তিনি একটি ধার্মিক পরিবারের সন্তান। তাঁর ভাই এবং চাচা দ্বীনের দা’য়ীহ এবং ‘আরবি ভাষা, অলংকারশাস্ত্র ও যুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক ছিলেন।

তাদের আক্বিদা হল সালাফিয়াহ । তাঁর পিতা শাইখ আও’য়াদ আল-বু’বাদরী যিনি ছিলেন গোত্রের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব, তিনি দ্বীন ইসলাম কে ভালবাসেন এবং শালীনতা ও পুণ্যের দিকে আহ্বানকারী এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধের প্রতি সমর্থনকারী। তাঁর দাদা হাজ ইবরাহিম ‘আলী আল-বাদরী অটলভাবে জামা’য়াতে সালাত আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে সুপরিচিত ছিলেন, একইসাথে তাঁর গোত্রের নিকট প্রিয় ছিলেন ও বিনয়ী পরিবারের চাহিদা পূরণে অগ্রগামী ছিলেন। হাজ ইবরাহিম কয়েক বছর আগে মারা যা, দীর্ঘদিন এই দুনিয়ায় আল্লাহ’র আনুগত্যের মধ্যে থাকার পর এবং ভাল কাজে তৎপর থেকে ও আত্মীয়দের প্রিয়পাত্ররূপে থেকে যখন তাঁর বয়স হয়েছিলো ৯৫ বছর।

খালীফাহ ইবরাহিম ড. আবু দু’আ এমন একজন মানুষ যার আছে বাগ্মিতা ও জোরালো ভাষা, একই সাথে আছে সুস্পষ্ট অন্তর্দৃষ্টি এবং বিচক্ষণতা; এবং তাঁর মধ্যে রাষ্ট্রের প্রাক্তন আমীর আবু ‘উমার আল- বাগ্বদাদি’র ধৈর্যশীলতা ও স্থিরতা এবং আবু আইয়ূব আল-মাসরি’র বুদ্ধিদীপ্ততা, উৎসাহ ও প্রখর নিরাপত্তা চেতনা – দু’জনের বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটেছে।

খালীফাহ ইবরাহিম ড. আবু দু’আ-র সামরিক এবং নিরাপত্তা বিষয়ক অভিজ্ঞতা বিগত প্রায় এক দশকের যুদ্ধ, আক্রমন এবং পিছিয়ে যাওয়া – এগুলোর অনুশীলনের ফলে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি যুদ্ধের জন্য উদ্বিপ্ত ছিলেন এবং গ্রেফতার ও মুক্তিপ্রাপ্তির পর নিজে যুদ্ধ করেছেন। তিনি অনেক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, বিভিন্ন জামা’আহ প্রতিষ্ঠা করেছেন ও প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছেন এবং সমর্থন করেছেন। তারপর তিনি মাজলিস আশ-শুরা আল-মুজাহিদীনে যোগদান করেন এবং ইসলামিক স্টেইট অফ ‘ইরাক্ব-এর মাজলিস আশ-শুরা’র সদস্য হিসেবে, অতঃপর ১৬ মে ২০১০ সাল থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামিক স্টেইট অফ ‘ইরাক্ব-এর আমীর হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি এই মর্যাদায় উন্নীত হয়েছেন বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করার মাধ্যমে যতক্ষণ না তিনি এই দায়িত্বের যোগ্য হয়ে উঠেন।

শুরুর দিকে তিনি তাঁর কয়েকজন সাথীকে নিয়ে জামা’আত জাইশ আহলে সুন্নাহ-এর প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন যা দিয়ালা, সামাররা এবং বাগ্বদাদ-এর কিছু নির্দিষ্ট প্রদেশে সক্রিয় ছিল এবং তিনি এই জামা’আতের শারী’য়াহ কমিটির প্রধান ছিলেন। পরবর্তীতে এই জামা’আহ, মাজ়লিস আশ-শুরা আল-মুজাহিদীন আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করার এক সপ্তাহ পর তার প্রতি বাই’য়াত প্রদানপূর্বক যোগদান করে। আর তখন খালীফাহ ইবরাহিম ড. আবু দু’আ মাজলিস-এর শারী’য়াহ কমিটিতে যোগদান করেন এবং মাজ়লিস আশ-শূরার সদস্য হন। অতঃপর যখন ইসলামিক স্টেইট অফ ‘ইরাক্ব ঘোষিত হল, তখন তিনি উলাই’য়াহ-এর শারী’য়াহ কমিটির তত্ত্বাবধায়ক হন। একই সাথে তিনি ইসলামিক স্টেইট অফ ‘ইরাক্ব-এর মাজলিস আশ-শুরা’র সদস্য হন। আমীর শাইখ আবু ‘উমার আল-বাগ্বদাদি’র প্রতি সামাররা ‘র কিছু গোত্রের বাই’য়াতের ব্যপারে তিনি সুস্পষ্ট প্রভাব রাখেন এবং তিনি তাঁর নিজ গোত্র ও তার যুবকদের রাষ্ট্রের প্রতি বাই’য়াতের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এবং বছর পার হওয়ার পর এটি যৌক্তিকভাবে প্রমাণিত হয়ে গেল যে, শ্রদ্ধেয় আবু ‘উমার আল-বাগ্বদাদি আল-হুসাইনি আল-ক্বুরাঈশী (হামিদ আল যাউয়ি)’র সফলতার পেছনে ‘আবু মাহমুদ’-এর প্রখর নিরাপত্তা কৌশল ছিল। এবং তিনি তা বিবেচনা করেছিলেন এবং বিশাল সম্ভাবনা প্রত্যক্ষ করেছিলেন এবং খালীফাহ ইবরাহিম ড.আবু দু’আ কে তাঁর উত্তরাধিকারী করার ব্যপারে পরামর্শ দিয়েছিলেন।

এই জীবনী সংগ্রহ করা হয়েছে খালীফাহ ইবরাহিম আমীরুল মু’মিনীন শাইখ আল-বাগ্বদাদি’কে সহায়তা ও তাঁর প্রতি ন্যয়বিচার করার জন্য, যে মানুষকে তারা তাদের ধারালো জিহ্বা ব্যবহার করে নিন্দা জানায়, কিন্তু তারা ভুলে গেছে সিরিয়ার জনগণের প্রতি তাঁর আকুতি, দৃঢ় প্রত্যয় ও সাহায্যক; যাদের তিনি সাহায্য করেছিলেন অর্থ এবং কষ্টকর পরিস্থিতিতেও অন্তর দিয়ে। এবং যারা মুজাহিদীন’দের সম্পর্কে জানে না এবং জানে না তাদের তাৎপর্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে – তাদের জানানোর উদ্দেশে। সুতরাং ধারণাকে অবলম্বন করে বেঁচে থাকা যেসব মানুষ ঘরে বসে শুধু নিন্দা জ্ঞাপন করে – তারা কি তাদের জিহ্বাকে সামলাবে না মুজাহিদীন’দের সমালোচনা থেকে?